শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

নৃশংস বোমা হামলার ২০ বছর

ফাইল ছবি

আজ ১৬ জুন২০২১ সাল। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভয়াবহ বোমা হামলার বিশ বছর পূর্ণ হলো। এই ঘটনার পর টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। তবে এখনও হয়নি বোমা হামলার বিচার। বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় ক্ষোভ রয়েছে নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞে নিহত ও আহতদের পরিবারে। অনেকেই বিচার পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছেন।

এদিকে এই বোমা হামলায় আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ। ঘটনার সময়ও তিনি একই আসনের সাংসদ ছিলেন। গত বছরের ৭ জুন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আদালতে এই ঘটনার সাক্ষ্য দেন সরকারদলীয় এই সাংসদ। সাক্ষ্য দেওয়ার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘নির্দোষ ব্যক্তিরা এই মামলায় শাস্তি পাক আমি তা চাই না। বিএনপি নেতা তৈমুর আলম ও শকু এই ঘটনার সাথে জড়িত না বলে আমি মনে করি।’

সাক্ষ্য প্রদান শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনেও কথা বলেন শামীম ওসমান। এক প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি কাউকে অপরাধী মনে করি না। আর আমি মনে করি না যে, কাউন্সিলর শকু এটার সাথে জড়িত।’

২০০১ সালের ১৬ জুন নগরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নৃশংস বোমা হামলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ২০ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে চারজন নারীও ছিলেন। আহত হন সাংসদ শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে। বোমা হামলার ঘটনার পরদিনই তৎকালীন শহর (বর্তমান মহানগর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা বাদী হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রধান ও আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা-কর্মীকে আসামি করে দন্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেন। পরে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। অন্যদিকে বোমা হামলায় নিহত ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা হালিমা বেগমের ছেলে কালাম বাদী হয়ে শামীম ওসমান ও তার দুই ভাইসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে পৃথক আরেকটি মামলা করেন। যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৩ সালে বিস্ফোরক মামলায় ২৭ জনকে ও ২০১৪ সলে হত্যা মামলায় তদন্তকারী সংস্থা ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। এ মামলায় গ্রেফতার হন তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ১০ জন। আসামিদের মধ্যে বৃটিশ হাই কমিশনারের উপর বোমা হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। কারাগারে রয়েছে আদালতে একমাত্র স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল ও আব্দুস সালাম পিন্টু। ভারতে গ্রেফতার হন সহোদর আনিসুল মোরছালিন ও মাহাবুবুল মুত্তাকিম। জামিনে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শওকত হাসেম শকু ও ওবায়দুল হক। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2020 bdnewseye.com
Developed BY M HOST BD