• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
ফতুল্লায় মায়ামনি সেবা সংস্থার উদ্যোগে বার্ষিক মিলাদ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ না:গঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি কার্যালয়ে সাংবাদিক ও কবি কাজী আনিসুল হক হীরার জন্মদিন উদযাপন আজ কবি ও সাংবাদিক কাজী আনিসুল হক’র জন্মদিন বদলিজনিত বিদায়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিকে জার্নালিস্ট ইউনিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান না’গঞ্জ সদরে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা সিদ্ধিরগঞ্জে শিক্ষিকা শাহনাজ-এর স্বাস্থ্য সেবা কাজে শামীম-মামুনের বাধা অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা দেওয়ায় ক্ষোভ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বিএনপিতে ত্যাগীদের অবমুল্যায়ন আখের গোছাচ্ছে সুবিধাবাদীরা নারায়ণগঞ্জে দ্বিতীয়বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেন ডিএসবি ফতুল্লা জোনের হুমায়ুন কবির ফতুল্লার কমর আলী স্কুলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ৭৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

দুই হাতে কাপড় ধরে সেলাইয়ের কাজ শিখছিলেন নাছরিন ফারজানা। প্রশিক্ষণ শেষে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু নিজের কোনো সেলাই মেশিন নেই। প্রশিক্ষণ শেষ হলে মেশিনও পাবেন না। ফলে শেখা কাজটি কত দিন ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা।

বিষয়টি জানতে পেরে থমকে দাঁড়ান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকেই যোগাযোগ করেন স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। তাঁর আহ্বানে পাঁচটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সংস্থাটি। অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ১৫টি মেশিনের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করা হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় প্রশিক্ষণকক্ষের পরিবেশ। প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফেরার শঙ্কায় থাকা ২০ নারীর সামনে খুলে যায় শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের ২০২৫–২০২৭ চক্রের আওতায় আয়োজিত দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কর্মসূচি উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক।

প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক জানতে পারেন, আধুনিক দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডে অংশ নেওয়া নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তখনই তিনি তাঁদের জন্য মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত মুরাদপুর থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী নাছরিন ফারজানা। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি, প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন পাব। আজ ডিসি স্যার নিজে উদ্যোগী হয়ে আমাদের সবার জন্য নতুন সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন।’

তিন সন্তানের মা নাছরিনের স্বামী আগে প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেকার। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেলে ঘরে বসে কাজ করে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে চান নাছরিন।

তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিন না থাকায় অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ করতে পারেন না। নিয়মিত চর্চা না থাকায় একসময় শেখা কাজ ভুলে যান। মেশিনটি পেলে আমি কাজ করে সংসারের টানাপোড়েন কিছুটা হলেও কমাতে পারব।’

উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসক ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ নয়, শেখা দক্ষতাকে আয় ও স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে পরিণত করার তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কাজের সুযোগ পাবেন, সেই পরিকল্পনাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের করতে বলেন তিনি।

আয়োজকেরা জানান, পাঁচটি ট্রেডে ২০ জন করে মোট ১০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি ট্রেডের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। প্রশিক্ষণার্থীদের কাজের মান উন্নত করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা যে কাজই করি, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে করতে হবে। একটি সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে হবে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের জন্য সেটি কতটা কার্যকর এবং এই দক্ষতা নিয়ে তাঁরা বাস্তবে টিকে থাকতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

জনগণকে দেশের প্রধান সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব প্রশিক্ষকদের। একজন মানুষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে না পারেন, তাহলে সেই প্রশিক্ষণের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। প্রশিক্ষণে ব্যয় করা সময়ের মূল্য দিতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে অর্জিত দক্ষতা যেন আপনাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে শরণ, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন, বিভা, রিডো, ঠিকানা, স্পার, এসএসডি, পল্লী সেবা সংস্থা, প্রদীপন ও এআরপি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..