• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ডিসি ও এসপি নারায়ণগঞ্জে জাতীয় কণ্যশিশু দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জকে শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়তে হলে এখনই সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ শ্রেণির জেলায় উন্নীতকরণসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন ডেঙ্গু মোকাবিলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক ৩০০ শয্যা খানপুর হাসপাতালে টেস্ট কিট হস্তান্তর সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল পরিদর্শনে দিনব্যাপী রোড-শো নারায়ণগঞ্জের বাতিঘর: বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম ফতুল্লায় জামিনে এসে ফের বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেতা শুভ ও শিমুলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ একজন কিংবদন্তি ও এক অনন্য ভালোবাসার নাম লিওনেল মেসি -সুমন চৌধুরী চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

৩ অক্টোবর চিরশিশু রহীম শাহের জন্মদিন

কাজী আনিসুল হক / ৯০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলা শিশুসাহিত্যের অঙ্গনে রহীম শাহ একটি সুপরিচিত ও প্রিয় নাম। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে সাহিত্যচর্চা করে আসছেন। ৩ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। ১৯৫৯ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের পশ্চিম বাকলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

শিশু-কিশোরদের মনোজগৎ, তাদের আনন্দ-বিস্ময়, কৌতূহল ও কল্পনার জগৎকে ছন্দ ও শব্দের মায়ায় ধারণ করেছেন রহীম শাহ। তাঁর লেখায় শিশুর সরলতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রকৃতি, দেশ, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের নানা অনুষঙ্গ। এ কারণেই কয়েক প্রজন্মের পাঠকের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন আপনজন—একজন চিরশিশু লেখক।

১৯৭০-এর দশক থেকে নিয়মিত লেখালেখি করছেন রহীম শাহ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। ছড়া, কবিতা ও গল্পের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের উপযোগী নানা সৃজনশীল রচনায় তিনি রেখে চলেছেন তাঁর স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘লড়াই লাগার ঘণ্টা’, ‘দুধ মাখা ভাত কাকে খায়’, ‘রাতের কপালে জোনাকির টিপ’, ‘সবার আগে কুসুম বাগে’, ‘টম এন্ড জেরির ঢাকা সফর’, ‘আগুন ডানার পাখি’, ‘ছোটদের রামায়ণ’ ও ‘বীরকন্যার ছড়া’।

শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এর আগে ও পরে তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা। অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, জসীমউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার, মওলানা ভাসানী স্মৃতি পুরস্কার এবং আমরা কুঁড়ি শিশুসাহিত্য পদক তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে। এপার বাংলা ছাড়িয়ে ওপার বাংলাতেও তিনি জনপ্রিয় এবং অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠেছেন। তাঁর ছড়া ‘ছুটি’ স্থান করে নিয়েছেন পাঠ্যবইয়ে।

সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতাও রহীম শাহের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৮১ সালে দৈনিক নয়া বাংলা পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে কর্মরত থাকার সুবাদে শিশুদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গেও তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সাহিত্যের বাইরেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টির কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি। পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

রহীম শাহের সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর শিশুমন। তিনি শিশুদের জন্য লিখেছেন, কিন্তু তাঁর লেখার আনন্দে বড়রাও ফিরে পান শৈশবের স্মৃতি। ছন্দের দোলা, শব্দের খেলা আর কল্পনার রঙে তাঁর রচনাগুলো শিশুদের পাঠজগৎকে যেমন আনন্দময় করে, তেমনি তাদের ভাবতে ও স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

জন্মদিনে তাই শুধু একজন লেখকের জন্মদিন উদ্‌যাপন নয়; উদ্‌যাপন করা যায় বাংলা শিশুসাহিত্যের এক দীর্ঘ ও সৃজনমুখর পথচলাকে। রহীম শাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যে নির্মল শিশুজগত নির্মাণ করেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের পাঠভুবনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জন্মদিনে চিরশিশু রহীম শাহের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা। তাঁর কলমে ছন্দের আনন্দ, শিশুমনের স্বপ্ন এবং সৃজনশীলতার আলো আরও বহুদূর ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশা।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..