মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

শেষ মহুর্ত্বে নানা বির্তকে নূর হোসেন

নূর হোসেন।

বিশেষ সংবাদদাতা: খুব আসন্ন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ মহুর্ত্বে সকল প্রার্থীরা যখন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড করে ভোটারদের আস্থা ও সমর্থন যোগাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনি এ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর হোসেন সওদাগর নিজেকে জড়াচ্ছেন নানা বির্তকে। টাকার জন্য যে কোন কাজে তিনি ছুটে যাচ্ছেন। তিনি ভাবছেন না, এ সমস্ত বির্তক কর্মকান্ড তার নির্বাচনে বিরাট একটা প্রভাব ফেলবে। তিনি সব ভুলে শুধুমাত্র নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নূর হোসেন সওদাগর গোগনগর ইউপির চেয়ারম্যান হলেও মূলত তার ব্যবসা জমি। তিনি তার ইউনিয়নের সকল ঝামেলার জমিগুলো নিজের নামে পাওয়ার নিয়ে পরে সেগুলো বিক্রি করে থাকেন। এছাড়াও তিনি নিজ এলাকায় ড্রেজারের ব্যবসার সাথেও জড়িত। এসব ব্যবসা দিয়ে তিনি রাতারাতি বুনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নওশেদ আলী মারা যাওয়ার পর তিনি এ ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান । ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার সাথে সাথে একটি প্রাইভেট কারের মালিক হোন তিনি। সেই প্রাইভেট কার নিয়েও আছে নানা বির্তক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেম্বার বলেন, কাঠপট্টি নদীর পূর্বে সিকদার এন্টারপ্রাইজ রাইজ মিলস আবুল মাষ্টার গত ৩০-৩৫ বছর যাবৎ এ জায়গাটার ভোগদখলে আছেন। তিনিও ওই জায়গার লিজ নেন নাই। এক হিসেবে তিনিও অবৈধ যেহেতু তিনি দলিল করেন নাই। গত বছর (২০২০ সাল) নূর হোসেন আরএস ওয়ালার কাছ থেকে ওই জায়গাটা পাওয়ারে নিছে। মূলত নূর হোসেনের কাজই হলো, ভূমিদস্যুতা।
তিনি আরও বলেন, ফকির বাড়ী, মাদবর বাড়ী আরও একটা চারতলা বিল্ডিং। এখানেও নূর হোসেন চাঁদাবাজী করেছে। না হলেও ওই মহিলার কাছ থেকে নূর হোসেন বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা নিছে। ওই মহিলার আরও একটা জায়গা ছিলো। যেটা ওনার কাছ থেকে তার ছোট বোন অথবা বোন জামাই ক্রয় করেছে। ওইখানে গিয়াও কোপ দিছে। ওখান থেকে ২২ শতাংশ জায়গা আত্মসাৎ করছে। এটাই হলো বাস্তব, ইউনিয়নে এটার ডকুমেন্ট (প্রমাণ) আছে। এছাড়াও নূর হোসেন আরও একটা জায়গা পাওয়ার নিছে। এটা ওয়ারিশরা আজও পর্যন্ত দখল করতে পারেনাই। নূর হোসেনের দখলে আছে। নূর হোসেনের অন্যকোন পেশা নাই। তার পেশাই হলো ভূমিদস্যুতা করা।
নূর হোসেন এ ধরনের নানা বির্তকে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছেন শুধুমাত্র টাকার জন্য। তিনি যেন শুধু টাকার নেশায় মেতে উঠেছেন। আর তাইতো তিনি ভালো মন্দ কিছুই বিচার করছেন না। মানুষকে নি:স্ব করে তাদের জায়গা জমি কৌশলে কেড়ে নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মানুষের ব্যবসা বাণিজ্যেও ইদানিং হাত বাড়াচ্ছেন তিনি। যেগুলো অনলাইন ও স্থানীয় বহু পত্রিকায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি কাশেম সম্রাটের কাছ থেকে তিনি ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যপারে কাশেম স¤্রাট তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত ৩০ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রিমিয়াম সিমেন্ট ফ্যাক্টরী থেকে ওয়েজষ্টিজের মালামাল বের করার সময় নূর হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ নিয়ে মালামাল বের করতে বাধা প্রদান করে। এসময় স¤্রাট প্রতিবাদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হোন সম্রাট। এসময় সম্রাটকে বেধর পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
পরে সন্ত্রাসীরা স¤্রাটের কাছে থাকা নগর ২৮ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল জোর পূর্বক কেড়ে নেয়। এবং সন্ত্রাসীরা যাবার আগে দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা চাদা না দিলে ফ্যাক্টোরী থেকে মালামাল বের করতে দিবেনা বলে হুমকি দেয়।
এদিকে নূর হোসেনের এসব কর্মকান্ড আসন্ন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দারুন একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, নূর হোসেন একজন মেম্বার থেকে অতি সহজে চেয়াম্যান হওয়ায় তিনি বুঝতেই পারছেন না যে, চেয়াম্যান হওয়াটা অতটা সহজ নয়। এর জন্য জনপ্রিয়তা, জন সর্মথন এবং অবশ্যই জনগণের আস্থার পাত্র হতে হবে। তিনি যদি এসব অর্জন করতে পারেন, তবে তার জয় নিশ্চিৎ হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি নূর হোসেন চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে তেমন কোন কাজ করেননি যে, জনগণ তার উপর আস্থা রাখতে পারে। বরং তিনি উল্টো নিজেকে নানা বির্তকের মধ্যে রেখেছেন, জনগণকে ধোকা দিয়েছেন। আর এসবের কারণে তার জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়েছে। তাই আসন্ন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্র্বাচনে নূর হোসেনের পুনরায় চেয়ারম্যান হওয়াটা বড় কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলেও মনে করেন সচেতন মহলটি।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2020 bdnewseye.com
Developed BY M HOST BD