মাদক, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, যানজট ও পরিবেশ দূষণসহ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইসরাত জাহান (পিপিএম), সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনউদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নুরে আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, সার্কেল অফিসারগণ, র্যাব-১১, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
সভায় গত মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অগ্রগতি ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। মাদক, ছিনতাই, চোরাচালান, কিশোর গ্যাং, যানজট, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, বাল্যবিবাহ, পরিবেশ দূষণ, বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এমপি আবুল কালাম বলেন,
ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, আর্মি মার্কেট ব্যবস্থাপনা, মাইক্রোস্ট্যান্ড ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে তদারকির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, হাইওয়ে সড়কে যেকোনো জায়গায় রাস্তা পারাপার কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অটোরিকশার চার্জিং স্টেশনগুলোকে তদারকির আওতায় আনতে বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরুন। গুজব রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিরো টলারেন্সে নীতিতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এর স্থায়ী সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জরুরি। বাড়িভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অপরাধ সংঘটিত হলে মামলা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের সবার মিলে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা তৈরি করতে হবে।
সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়: মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলায় সপ্তাহে অন্তত ২ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।
যানজট ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে অবৈধ অটোরিকশা ও চার্জিং স্টেশন উচ্ছেদে সমন্বিত অভিযান।
নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বাড়িভাড়াটিয়া ও বিদেশি নাগরিকদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক।
সভায় বক্তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই নারায়ণগঞ্জকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...