নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্ত্রীর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে মারধর এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. ইসহাক (৩০) ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারী মো. ইসহাক ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ ঢালিপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মাদিয়া আভার (২০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ইসহাকের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁর স্ত্রী তাঁর সঙ্গে এবং তাঁর মা মুক্তা বেগমের সঙ্গে ঝগড়াবিবাদ ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে স্ত্রী তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দিতেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি শাশুড়িকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শাশুড়ি প্রায়ই তাঁদের বাসায় এসে স্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন, যা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে গেলে ইসহাক তাঁকে বুঝিয়ে আবার সংসারে ফিরিয়ে আনতেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি শাশুড়িকে জানালে তিনি অভিযোগকারীর বক্তব্যে কর্ণপাত না করে ওই দিনই স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে নিজের বর্তমান ঠিকানায় চলে যান।
ইসহাকের দাবি, গত ২০ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে তিনি আর সংসার করবেন না বলে জানান। এর কারণ জানতে চাইলে স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্ত্রীর বড় ভাই তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গালিগালাজে নিষেধ করায় তাঁরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে থানায় বা আদালতে অভিযোগ করলে বড় ধরনের ক্ষতি করা এবং একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন।
ঘটনার বিষয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...