বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত নাম জাকির খান

বিডি নিউজ আই,নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত নাম জাকির খান। দেশে নেই ২১ বছর। কেউ বলে গডফাদার, কেউ বলে সন্ত্রাসী ডন, কারো কাছে রাজনৈতিক নেতা। আসলে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। কারো কারো ভাষ্যমতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ধর্মপুত্র। হত্যা, চাদাঁবাজিসহ একাধিক মামলার আসামী একসময় রাজপথ কাপানো ছাত্রনেতা জাকির খান। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপির রাজনীতিতে জাকির খানের প্রয়োজনীয়তা বারংবার জানান দিচ্ছে সমর্থকরা।

নারায়ণগঞ্জ এর আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জাকির খান বর্তমানে রয়েছে জেল হাজতে। সম্প্রতি সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় সাক্ষী গ্রহন তারিখে জামিনের আবেদন করা হলে নামঞ্জুর করে আদালত। তবে সেই দিন নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়া কম্পিত হয় জাকির খান সমর্থকদের শ্লোগানে। সে সময় বাধ্যহয়ে পুলিশি লাঠিচার্জ -এর ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ বলছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে বরাবরই দেখা যায় জাকির খান সমর্থকদের।

জানাযায়, কোর্ট পুলিশ কিংবা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের কোনো ধারণাই ছিল না জাকির খান মূলত কোন পর্যায়ের নেতা। তাছাড়া গত শনিবার গভীর রাতেই পুরো কোর্ট এলাকা তথা ডিসি ও এসপি অফিসের প্রবেশ মুখে জাকির খানের বিশাল বিশাল ব্যানার ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছিল।

তবে জাকির খান গ্রেফতারের মাধ্যমে হলেও দেশে ফিরে আসায় তার অনুগামী বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। এখন বিএনপির সকল নেতারা, তাদের প্রিয় নেতা জাকির খানের মুক্তি দাবি করছেন। তাদের একটাই কথা এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে জাকির খানকে অত্যন্ত প্রয়োজন।

দেওভোগের বাসিন্দা ছাত্রসমাজের হাত ধরে রাজনীতিতে জাকির খানের উত্থান এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার পর জাকির খানের রাজনীতি প্রকৃত রূপ পায়। তবে অনেক নেতা-কর্মীরা এই জাকির খানকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রাণভোমরা বলে থাকে।

বিএনপি নেতা জাকির খানের বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে জাকির খানকে আইডল মনেকরে থাকেন অনেকে। দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশে ফিরে নানা আলোচিত জাকির খান র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। এই ২১ বছর তার অনুপস্থিতিতে ও তার কর্মীরা তার নামের শ্লোগানে মাঠ গরম করে রেখেছেন।

বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন সভায় ও নানা কর্মসূচিতে এই নেতার, কর্মীরা সক্রিয় ছিল। তার কর্মীরা বিভিন্ন নেতার ছায়াতলে থেকে রাজনীতি করে আসলেও সকল কর্মসূচিগুলোতে তারা তাদের ি প্রয় নেতা জাকির খানের নামের শ্লোগান দিয়ে থাকে। জাকির খান বলয়ের সকল নেতা-কর্মীরা ভাবছেন জাকির খান মুক্তি পেয়ে রাজপথে নামলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শক্তি বাড়বে বিরাট আকারে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে সন্ত্রাসমূলক অপরাধ দমন বিশেষ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় জাকির খানের ১৭ বছরের সাজা হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে সাজা কমিয়ে আট বছর করেন। কিন্তু তিনি গ্রেফতার এড়াতে দেশে-বিদেশে দীর্ঘ প্রায় একুশ বছর পলাতক ছিলেন।

২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোটভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এ ব্যাপারে জাকির খানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এরপর জাকির খান নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে আসেন। গত ২ সেপ্টেম্বর র‌্যার-১১ বিশেষ অভিযানে ডিএমপি ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা এলাকা হতে বিদেশি পিস্তলসহ জাকির খানকে গ্রেফতার করে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2020 bdnewseye.com
Developed BY M HOST BD