• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে হলেও নারায়ণগঞ্জে সাদপন্থীদের মারকায ইজতেমা বন্ধ করার হুশিয়ারী বিশিষ্ট সমাজসেবক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ তুরস্কের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন সাংবাদিক এম সামাদ মতিন ১৭ বছর অনেকেই গার্মেন্টস শিল্প ও শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন: দিপু নগরীর দেওভোগ এলাকায় বেবী ল্যান্ড এডভেঞ্চার জোন এর শুভ উদ্বোধন তুরস্কে COP31 জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক এম সামাদ মতিন নারায়ণগঞ্জ সদরে ১১ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধ বিতরণ করেন ডিসি রায়হান কবির শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফেরাতে বিসিক-ইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে ডিসি-এসপি ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী দেওভোগে আলী আহাম্মদ চুনকার দুই দিনব্যাপী ওরশ শুরু

চাকুরিচ্যুতি থেকে কারাবরণ—তবুও মচকাননি ডা. মুজিবুর রহমান

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ৩২৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যে কজন মুখ অবিচল আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ডা. মুজিবুর রহমান। কেবল একজন চিকিৎসক হিসেবেই নয়, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল স্রোতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই মানুষটি আজ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অন্যতম সদস্য।

১৯৬৩ সালে চাঁদপুর মতলবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ডা. মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে ১৯৭৮ সালে। ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই কিশোর বয়সে শহীদ জিয়ার সান্নিধ্য ও দেশপ্রেমের দীক্ষা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই থেকে জিয়ার আদর্শই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা।

১৯৭৯ সালে ঢাকা কলেজের অগ্নিগর্ভ সময়ে প্রতিকূল পরিবেশে ছাত্রদলের গোড়াপত্তন করেন ডা. মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি যে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আজও সমকালীন ছাত্রনেতাদের কাছে প্রেরণার উৎস। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এনেস্থেসিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেও রাজনীতির মাঠ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি।

আদর্শের প্রতি অবিচল থাকায় ডা. মুজিবুর রহমানকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁকে এবং তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীকেও সরকারি চাকুরি থেকে বরখাস্ত করে। নিষ্ঠুরতার চরম সীমায় গিয়ে সেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয় ২০১৪ সালের ব্যাকডেট দিয়ে। এমনকি তাঁর চিকিৎসক ছেলেকেও বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি বা বেসরকারি কোথাও চাকুরি করতে দেওয়া হয়নি। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় মানসিক যাতনা আর কী হতে পারে?

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে ডা. মুজিবের ওপর নেমে এসেছিল অমানবিক নির্যাতন। ২০১০ সালে যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় তছনছ হয়ে যায় তাঁর তিলে তিলে গড়া হাসপাতাল। বছরের পর বছর নিজ ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগ পাননি তিনি। অসংখ্য গায়েবি মামলা আর কারাবরণও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও মিথ্যা মামলায় দুই মাস জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দমে যাননি এই লড়াকু সৈনিক।

নারায়গঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমানে সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চিকিৎসক সমাজেরও শীর্ষ নেতা। বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেস্থেসিওলজিস্টস (নারায়ণগঞ্জ শাখা) এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে তিনি সাধারণ চিকিৎসকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। একইসাথে তিনি পল্লী চিকিৎসক সমিতির কেন্দ্রীয় অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি প্রমাণ করেছেন, জেল-জুলুম আর ভয় দেখিয়ে আদর্শকে কেনা যায় না। নিজের সবটুকু হারিয়েও তিনি আজ গর্বিত, কারণ তিনি বিক্রি হননি। নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দৃঢ় মানুষটিকে মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায়, তিনি কেবল একজন নেতা নন; তিনি ত্যাগের এক জীবন্ত উদাহরণ। ডা. মুজিবুর রহমান আজ সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দীপ্ত শিখা হয়ে আছেন এবং থাকবেন জাতীয়তাবাদী শক্তির পথচলায়।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..