শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জে নারী নেত্রীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ! তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিককে বাঁধা ও মারধর

বিডি নিউজ আই, নিজস্ব সংবাদদাতা: আলোচনা ও সমালোচনায় ঘেরা নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের ভূঁইয়াপাড়াস্থ সাইফুল ভূঁইয়া’র বাড়ি সংলগ্ন স্থানে নারায়নগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাজী ওয়াসিম ও মহানগর বিএনপি’র সমাজ-কল্যাণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক নারী নেত্রী মিনু আক্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সংবাদ পেয়ে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ কালে নারী নেত্রী মিনু, কাজী ওয়াসিম ও সাইফুল ভূইয়ার  আক্রোশের শিকার হয় ফটো সাংবাদিক জুম্মান সোহেল। ফটো সাংবাদিক সোহেলকে এলোপাথাড়ি মারধরে নীলা-ফোলা জখম করে তার ব্যবহৃত ডি. এস. এল. আর. ক্যামেরা ভাংকচুর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ক্যামেরাটি না নিতে পেরে তার ব্যবহৃত রেডমী নোট এইট মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেয়। তাদের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১ টায় এ ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণে ফটো সাংবাদিক জুম্মন সোহেল বলেন, আমি ও আমার একজন সহকর্মী ইমরান হোসেন খান সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফেরার পথে জানতে পাই দুই পক্ষের সংঘর্ষের কথা। তাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই তথ্য সংগ্রহের জন্য। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পাই এলাকাবাসী আপত্তিকর অবস্থায় নেত্রী মিনু আক্তার ও কাজী ওয়াসিমকে হাতে-নাতে আটকানোর সূত্র ধরে সংঘর্ষ বাঁধে। আমি এ বিষয়ে বক্তব্য ও ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা বের করলে নেত্রী মিনু আক্তার আমার উপর রাগান্বিত হয়ে আমার গলা চেপে ধরেন। তার এহেন আচরণে আমি হতভম্ব ও বিভ্রত হয়ে পরি। এমতাবস্থায় আমি বাঁচার চেষ্টা করি। এ সময় নেত্রী মিনুকে নিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠা কাজী ওয়াসিম ও সাইফুল ভূইয়া তার সাথে থাকা কতিপয় লোকজন আমার উপর অতর্কিত আক্রমন করে। তাদের হাতে থাকা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ীভাবে মারধর করতে থাকলে আমি উপায়ান্তর না পেয়ে বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকি। এ সময় আশপাশের লোকজন তাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে আমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনার বিষয়ে আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ন্যায় বিচারে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিনু আক্তার (৩২), কাজী ওয়াসিম (৪২), পিতা মৃত বেঞ্জু কারী, আশিক (৩০), আনিস (২৮), অনিক (২৫), সর্ব পিতা আম্বর আলী, সর্ব সাং পশ্চিম এনায়েতনগর , কেন্যালপাড় সংলগ্ন থানা সিদ্ধিরগঞ্জ জেলা নারায়ণগঞ্জ গং সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ সংঘর্ষের বিষয়ে ফটো সাংবাদিক জুম্মন সোহেল ও মিনু আক্তার উভয় পক্ষের পৃথক পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
কাজী ওয়াসিম ও সাইফুল ভূঁইয়া তারা দুজন হলো কাজী ওয়াসিম জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিন’র ছোট ভাই এবং সাইফুল ভুঁইয়া হলো যুবলীগ নেতা মহসিন ভূইয়ার বড় ভাই। দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার দন্দের লড়াই দীর্ঘ বছর যাবৎ চলে আসছে বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কাজী মহসিন’র ছোট ভাই ওয়াসিম ও মহসিন ভুইয়া’র বড় ভাই সাইফুল ভুঁইয়া এরা দুজনেই নারী লিপসু পিপাসু চরিত্রের। নেত্রী মিনু’র সাথে দুজনরই রয়েছে স্বক্ষতা। যার ফলে এই মিনুকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বোবা দ্বন্দ্ব। এইবোবা দ্বন্দ্ব থেকে ঘটনার দিন ওয়াসিম রাতের আঁধারে মিনু’র বাড়িতে প্রবেশের কথা শোনে সাইফুল ভুঁইয়া সহজেই মেনে নিতে পারেননি। তাই হিংসার আগুনে জলে সাইফুল ভুঁইয়া সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকেন। কাজী ওয়াসিমকে ওই বাড়ি থেকে বের হতে দেখেই সাইফুল ভূইয়াসহ তার বাহিনী নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন। কাজী ওয়সিম তড়িৎগতিতে মিনু’র বাড়িতে ঢুকে গেইট বন্ধ করে দিয়ে কাজী মহসিনকে ফোন দিলে বড় ভাই কাজী মহসিন তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে সাইফুল ভুঁইয়া’র লোকজনদের উপর আক্রমণ চালান। এতে শুরু হয় দুই পক্ষের সংঘর্ষ।
সূত্রে জানা যায় যে, ঘটনাস্থলে আহত সাংবাদিক জুম্মন সোহেল দীর্ঘ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ফটো সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সে নারায়ণগঞ্জের সৎ ও সাহসীকতার কন্ঠস্বর আপসহীন দৈনিক সোজাসাপটা পত্রিকায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে নিযুক্ত আছেন। এছাড়াও সে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ প্রিন্ট এর প্রকাশক।
নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


© All rights reserved © 2020 bdnewseye.com
Developed BY M HOST BD