• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বার্তা নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি রহিলো ঈদের শুভেচ্ছা  ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী সাবেক ছাত্রনেতা রোমেন-এর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বার্তা বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব নারায়ণগঞ্জ-এর পক্ষ থেকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা প্রকৃতির গোছানো আয়োজনে নিউইয়র্কে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন ঈদুল আজহায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এনজেইউ’র উদ্যোগে ওয়ায়েস করোনি (রাঃ) ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সাংবাদিকদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পশুর হাট পরিদর্শনে ডিসি মো. রায়হান কবির ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মান্নান মিয়া

কবি রিনাৎ সুলতানা‘র তিনটি কবিতা

বিডিনিউজ আই ডেস্ক : / ৭০০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
কবি রিনাৎ সুলতানা

তোমরা যাকে উল্কা বলো

রাতের বুক বিদীর্ণ করে নির্ঘুম জেগে থাকে
একটা নক্ষত্র পথভুলে,
কেউ কি দেখছ! দেখেছ কি কেউ!
নক্ষত্রের পাঁজরও দগ্ধ হয় আঁধারের বেনামী যন্ত্রণায়!

আচ্ছা! কি ব্যাথা হৃদয়ে পোষে!
অপেক্ষা নাকি আক্ষেপ!
নাকি প্রিয় হারানোর শ্লোক!

রাত বাড়তে থাকে
গভীররাতের ফাঁক গলে
একগাল হেসে ভাঙ্গা জ্যোৎস্নাটা বলে ওঠে
এ আর এমন কি….
অভ্যাস হয়ে গেছে, অভ্যাস… বুঝলে!

শোকতাপ সয়ে
তবুও নক্ষত্রটা জেগে থাকে,
না বলা কথারা জমে নীল হয়
শেষ রাতের আকাশে।
দগ্ধ হৃদয় ছুঁয়ে টুপকরে
নক্ষত্রের শরীর থেকে খসে পড়ে নামহীন যন্ত্রণা….
তোমরা যাকে উল্কা বলো।

ঘাতক

যখন অজস্র স্বপ্নের মৃত্যু নিয়ে বাঁচি
তখনো বাঁচার সাধ জাগে হৃদয়ে।
হাজার বছর বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছেই
হেঁটে চলি পৃথিবীর বুকে কন্টক পথ ধরে।
মাথার উপরে বিদগ্ধ সোনালি ডানার চিল
তীক্ষ্ণ দৃষ্টির ধারালো থাবায় শিকার খোঁজে,
নীল আকাশ তখন আরো উপরে,
অনেক উপরে উঠে যায়….
অথচ কি অদ্ভুত জীবন! একা একাই ছুটে চলে
কখনো ঠিক, আবার কখনো বা ভুল পথে।
তবে জীবন ও মৃত্যু কি সমান্তরাল?
জানিনা….
সত্যিই জানিনা…
মধ্য দুপুরের খাঁখাঁ রোদ্দুর হুল ফোঁটায় অনুভবে
ঠিক পোষা বিড়ালটার মৃদু কামড়ের মতো।
বিশ্বাস করো
মনে হয় এজীবন জীবন না….
একসময় জীবনের কাছে ঘাতক হয় স্বপ্ন
ঘাতক স্বপ্নের দাবানলে পুড়ে পুড়ে ভস্মীভূত হয় জীবন,
তখন সব খেলা সাঙ্গ করে দেহ ছেড়ে পালায় নশ্বর পৃথিবী থেকে,
পড়ে থাকা অবশিষ্ট দেহাবশেষ নিয়ে মিশে যেতে থাকি ধূলোয় ধূলোয়
হাজার স্বপ্নের মাঝে আমার আমিটা মুছে যায়
থেকেযায় নিশ্চিহ্ন জীবনের শেষ দাগ।
তবে কি জীবন; মৃত্যুর জন্যই শাশ্বত?
নাকি মৃত্যুই জীবনের জন্য অনিবার্য পরিণতি!

আপোষহীন আমি এক

যখন নিষিদ্ধ হলাম তোমার শহরে
তখনো আঁখিযুগল আধোআধো জেগে ছিলো,
হৃদয় দুয়ারও ছিলো আপোষহীন,
আর তখনই সন্ধান পেলাম
আমার মাঝেই অবিরত বয়ে চলেছে তিনটি সমুদ্র….
যখন স্বাদ নিতে শুরু করলাম
দেখলাম আমার তিনটি সাগর
আর পৃথিবীর সব সাগর দেখতে একই।
ছোট ছোট ঢেউ যেমন আছড়ে পড়ে তীরে
ঠিক তেমন করে আছড়ে পড়ে লবনাক্ত জলোচ্ছ্বাস,
ডুকরে ওঠে জীবন,
প্লাবিত হয় অধর,
পানসে হয় অস্তিত্ব।
আমার আমিটা আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে
যে আগুনে আমাকে পোড়াবে
তার তাপ তোমাকেও ছুঁয়ে যাবে,
জীবন ঝলসে যাবে,
দীর্ঘশ্বাসে ফোস্কা পড়বে,
যন্ত্রণায় ছটফট করবে,
তখনও জেগে থাকবে
আমি আর আমার শরীরের
দু’শত ছ’খানা দগ্ধ কয়লা।
তোমার শহরে অলিগলিতে যে গান বাজবে
সে তো আমারি অস্তিত্বের লিরিক।
তবে মুক্তি তোমার কোথায়?
তোমার দাম্ভিক রক্তস্রোতে যে ভাঙ্গন
বিশ্বাস করো আমাকে কোনদিন ছুঁতে পারেনি,
জেনে রেখো সেভাঙ্গন তোমাকেই অস্তিত্বহীন করবে।
শুধু এটকু জানি….
আমার দর্শনে,
আমার অস্তিত্বে,
আমার প্রাণসঞ্চারে,
আমিই উত্তম, আমিই মধ্যম, আমিই নাম,
আমিই শেষ, আমিই সব।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..