• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মান্নান মিয়া ঈদকে সামনে রেখে হাট-বাজার ও বসতবাড়ির নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ডিসি রায়হান কবির ডিসি জাহিদের দেওয়া হুইলচেয়ারে বদলে গেল প্রতিবন্ধী শওকতের জীবন আমেরিকার সমাজ-সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ হবে বাঙালিরা: নিউইয়র্ক বইমেলায় রেহমান সোবহান প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে ড্যাব’র মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আমেরিকান প্রেস ক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের সদস্য পদ অর্জনে এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ’কে এনজেইউ’র ফুলেল শুভেচ্ছা ছয় মাসের সাফল্য-চ্যালেঞ্জের খতিয়ান নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ নারায়ণগঞ্জ সদরে এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হাটের ইজারা সম্পন্ন, প্রশংসিত ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জে গ্রাম আদালতের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডিসি জাহিদের দেওয়া হুইলচেয়ারে বদলে গেল প্রতিবন্ধী শওকতের জীবন

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ৩২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী শওকত হোসেন। পাশে দাঁড়িয়ে মা সানু বেগমের চোখে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। দীর্ঘদিন পর তাঁর মনে হলো, ছেলেটা এবার নিজের মতো চলতে পারবে।

বন্দর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শওকত জন্মের দুই বছর পর থেকেই প্যারালাইজড। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঘরের এক কোণে। বাবা নুর মোহাম্মদ নিরাপত্তাকর্মী। সীমিত আয়ে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

সানু বেগম জানান, একটি হুইলচেয়ারের জন্য তিনি অনেকের দ্বারে গেছেন। আশ্বাস মিললেও সহায়তা পাননি। শেষ ভরসা হিসেবে গত বুধবার তিনি যান সারা বাংলাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে।

“আমি মোটরের হুইলচেয়ার চাইতেও পারিনি। শুধু বলেছিলাম, একটা হুইলচেয়ার হলে ছেলেটা একটু বসতে পারত। স্যার ধৈর্য ধরে শুনেছেন,” বলেন সানু বেগম।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। শনিবার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শওকতের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ার। পাশাপাশি ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার কেনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

“বৃষ্টির সময় ঘরে পানি পড়ে। আমার পঙ্গু ছেলেটা ভিজে থাকত। এখন অন্তত হুইলচেয়ার নিয়ে একটু বাইরে যেতে পারবে,” বলেন সানু বেগম।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের লাল ভবনের সামনে সেদিন কোনো বড় রাষ্ট্রীয় ঘোষণা হয়নি। কিন্তু এক অসহায় পরিবারের জন্য সেটি ছিল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিকেল। কারণ, কখনো কখনো একটি হুইলচেয়ার শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়—এটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার নতুন সাহস।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..