• বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
চাকুরিচ্যুতি থেকে কারাবরণ—তবুও মচকাননি ডা. মুজিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সহ মাদক-কিশোর গ্যাং নির্মূলে সফলতায় সর্ব মহলে প্রশংসিত এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহ ঘুষমুক্ত ভূমি সেবায় নজির স্থাপনে সর্বমহলে প্রশংসিত ডিসি মো: রায়হান কবির না.গঞ্জ সদরে কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশে হরতালের হুঁশিয়ারি নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং সহ সকল অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থান ডিসির জাতীয় মৎস্য পক্ষের প্রস্তুতি সভায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ দপশ : ডিসি মো,রায়হান কবির এডিটরস ক্লাব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তমিজীর সাথে জহিরুল ইসলাম বিদ্যুতের সৌজন্যে সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাত ভেন্যু সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : ডিসি জাহিদ প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে ১১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে গণমিছিল এ যোগদানের আহ্বান মাসুমের

চাকুরিচ্যুতি থেকে কারাবরণ—তবুও মচকাননি ডা. মুজিবুর রহমান

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যে কজন মুখ অবিচল আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ডা. মুজিবুর রহমান। কেবল একজন চিকিৎসক হিসেবেই নয়, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল স্রোতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই মানুষটি আজ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অন্যতম সদস্য।

১৯৬৩ সালে চাঁদপুর মতলবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ডা. মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে ১৯৭৮ সালে। ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই কিশোর বয়সে শহীদ জিয়ার সান্নিধ্য ও দেশপ্রেমের দীক্ষা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই থেকে জিয়ার আদর্শই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা।

১৯৭৯ সালে ঢাকা কলেজের অগ্নিগর্ভ সময়ে প্রতিকূল পরিবেশে ছাত্রদলের গোড়াপত্তন করেন ডা. মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি যে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আজও সমকালীন ছাত্রনেতাদের কাছে প্রেরণার উৎস। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এনেস্থেসিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলেও রাজনীতির মাঠ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি।

আদর্শের প্রতি অবিচল থাকায় ডা. মুজিবুর রহমানকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁকে এবং তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীকেও সরকারি চাকুরি থেকে বরখাস্ত করে। নিষ্ঠুরতার চরম সীমায় গিয়ে সেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয় ২০১৪ সালের ব্যাকডেট দিয়ে। এমনকি তাঁর চিকিৎসক ছেলেকেও বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি বা বেসরকারি কোথাও চাকুরি করতে দেওয়া হয়নি। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় মানসিক যাতনা আর কী হতে পারে?

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে ডা. মুজিবের ওপর নেমে এসেছিল অমানবিক নির্যাতন। ২০১০ সালে যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় তছনছ হয়ে যায় তাঁর তিলে তিলে গড়া হাসপাতাল। বছরের পর বছর নিজ ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগ পাননি তিনি। অসংখ্য গায়েবি মামলা আর কারাবরণও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও মিথ্যা মামলায় দুই মাস জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দমে যাননি এই লড়াকু সৈনিক।

নারায়গঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমানে সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চিকিৎসক সমাজেরও শীর্ষ নেতা। বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেস্থেসিওলজিস্টস (নারায়ণগঞ্জ শাখা) এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে তিনি সাধারণ চিকিৎসকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। একইসাথে তিনি পল্লী চিকিৎসক সমিতির কেন্দ্রীয় অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি প্রমাণ করেছেন, জেল-জুলুম আর ভয় দেখিয়ে আদর্শকে কেনা যায় না। নিজের সবটুকু হারিয়েও তিনি আজ গর্বিত, কারণ তিনি বিক্রি হননি। নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দৃঢ় মানুষটিকে মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায়, তিনি কেবল একজন নেতা নন; তিনি ত্যাগের এক জীবন্ত উদাহরণ। ডা. মুজিবুর রহমান আজ সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দীপ্ত শিখা হয়ে আছেন এবং থাকবেন জাতীয়তাবাদী শক্তির পথচলায়।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..