• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে হলেও নারায়ণগঞ্জে সাদপন্থীদের মারকায ইজতেমা বন্ধ করার হুশিয়ারী বিশিষ্ট সমাজসেবক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ তুরস্কের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন সাংবাদিক এম সামাদ মতিন ১৭ বছর অনেকেই গার্মেন্টস শিল্প ও শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন: দিপু নগরীর দেওভোগ এলাকায় বেবী ল্যান্ড এডভেঞ্চার জোন এর শুভ উদ্বোধন তুরস্কে COP31 জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক এম সামাদ মতিন নারায়ণগঞ্জ সদরে ১১ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধ বিতরণ করেন ডিসি রায়হান কবির শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফেরাতে বিসিক-ইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে ডিসি-এসপি ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী দেওভোগে আলী আহাম্মদ চুনকার দুই দিনব্যাপী ওরশ শুরু

ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাট প্রতিনিধি / ৩৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের উচিত জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে।’

আজ দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করছে এবং সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এসব উদ্যোগ ভেস্তে দিতে চায়।’

তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই সুযোগ নিতে না পারে। কারণ, এখন সময় দেশ গড়ার, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।

ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যারা বিগত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজ তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শুধু তা-ই নয়, তারা দেশের মিল-কারখানাগুলো ধ্বংস করতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মিল-কারখানাগুলো জাতীয় সম্পদ। এগুলো দেশের শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। পাশাপাশি শ্রমিকদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে আমরা মজুরি বোর্ড গঠন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দিন-রাত পরিশ্রম করছে, যাতে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, শিল্পের প্রসার ঘটে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হয়। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিল সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব, বিভিন্ন সময়ে সারাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।’

তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিবর্তনে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।(বাসস)

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..