বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নবী হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. আবুআল ইউসুফ খান টিপু সমর্থিত পরিষদ জয়লাভ করেছে। সাধারণ সম্পাদক পদে ৩০ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট টিপু। অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নবী হোসেন।
শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রেজাউল করীম খান রেজাকে পরাজিত করেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। নির্বাচনে মোট ৩৩৮টি ভোটের মধ্যে টিপু পেয়েছেন ১৮৪ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রেজা পেয়েছেন ১৫৪ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নবী হোসেনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। এ পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী জিএম হায়দার আলী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। নবী হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)। কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদেও নবী-টিপু পরিষদের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খান খোরশেদ ২৯৯ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী হয়েছেন। সিনিয়র আইনজীবী জাকির হোসেন ২৮১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং নারায়ণগঞ্জ বারের সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির ২৭৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ২৬৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ২১৮ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছেন। অন্যদিকে, সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে পারেননি এনসিপি নেতা নিরব রায়হান। তিনি পেয়েছেন ১১০ ভোট। নির্দলীয় প্রার্থী নাজমুল হক পেয়েছেন ৮৭ ভোট এবং হারুনুর রশীদ খান পেয়েছেন ৯১ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৩৮ জন। সে হিসাবে নির্বাচনে ভোট পড়ার হার প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিট প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রার্থীদের সমর্থনে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য চার সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক বদরুন্নাহার, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাবুল, সোহেল আক্তার সোহান ও অ্যাডভোকেট সামছুন নূর বাধন। কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের লিডার মাহমুদা মুন্সি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...