• শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
না.গঞ্জে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি চলমান নারায়ণগঞ্জে জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির উদ্যোগে সাংবাদিকদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ শূন্য থেকে শিখরে স্বপ্ন দেখার সাহস নিয়ে এক স্বপ্নবাজ সেলসম্যান না.গঞ্জ সদরে উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত অসহায়দের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ আন্তর্জাতিক নারী দিবস -২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে উদ্যোক্তা মেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি ও অসহায় পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ বহু ভাষাবিদ কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী আর নেই

হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন

বিডিনিউজ আই ডেস্ক : / ৬৪৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
কাউন

সুস্বাদু একটি ফসলের নাম কাউন। যা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এক সময় গ্রামেগঞ্জে ব্যাপকভাবে চাষ হলেও বর্তমানে উন্নত জাত ফসলের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন। স্বল্প খরচ, পরিবেশবান্ধব, সহজ চাষ পদ্ধতি ও পানি সাশ্রয়ী হওয়ার পরও শুধুমাত্র মানুষের অবহেলা-অনাদরে কাউনের চাষ আর নেই। ফসলটি যেন কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। কাউনের বৈজ্ঞানিক নাম ছিটারিয়া ইটালিকা গোত্র-গ্রামিনি।
এক মাস ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কাউন চাষের দেখা মেলেনি মতলব উত্তর উপজেলায়। কথা হয় মতলব উত্তর উপজেলার চরকাশিম এলাকার মিন্নত বেপারী (৭০) সঙ্গে। তিনি জানান, আগে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক জমিতেই কাউন চাষ হতো, এখন আর চোখে পড়ে না। ফসলটির চাষ পদ্ধতি সহজ, স্বল্প খরচ, পানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। শুকনো জমিতে ঝুরঝুরে চাষের পর চৈত্র (এপ্রিল) মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। আষাঢ় (জুলাই) মাসে ফসল ঘরে ওঠে।
তিনি আরও জানান, মাঝে একবার নিড়ানি দিলেই হয়, সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলন হয় বিঘাপ্রতি ১০-১৫ মণ। বাজারে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাছাড়া কাউনের শীষ ছিঁড়ে নিয়ে অবশিষ্ট গাছ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে জৈব সারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। আবার কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। কাউনের ভাত অত্যন্ত সুস্বাদু ও মুখরোচক। জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। পিঠা-পায়েস তৈরিতে এর কোনো জুড়ি নেই।
ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহীদ উল্লাহ প্রধান জানান, লাভজনক, সুস্বাদু, পরিবেশবান্ধব, স্বল্প খরচে আবাদযোগ্য ও পানি সাশ্রয়ী কাউন নামের দেশি এ ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এ জন্য সবার এগিয়ে আসা উচিত। দেশীয় জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কাউন নামটি।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, কাউন ফসলটি আসলেই বিলুপ্তির পথে। উপজেলায় এখন কোনো চাষি কাউন আবাদ করে কিনা আমার জানা নেই। আমাদের স্বার্থেই দেশীয় জাতের কাউন ফসলটিকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, কাউন নামের ফসলটি আর নেই বললেই চলে। ফসলি জমি কমে যাওয়া ও বাজার মূল্য কম থাকায় ফসলটি এখন আর দেখা যায় না। তবে বিলুপ্তপ্রায় ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..