• সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • |
  • ⇅ Bangla Converter
  • |
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ অসুস্থ, দোয়া চেয়েছেন সহকর্মীরা চাকুরিচ্যুতি থেকে কারাবরণ—তবুও মচকাননি ডা. মুজিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সহ মাদক-কিশোর গ্যাং নির্মূলে সফলতায় সর্ব মহলে প্রশংসিত এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহ ঘুষমুক্ত ভূমি সেবায় নজির স্থাপনে সর্বমহলে প্রশংসিত ডিসি মো: রায়হান কবির না.গঞ্জ সদরে কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশে হরতালের হুঁশিয়ারি নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং সহ সকল অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থান ডিসির জাতীয় মৎস্য পক্ষের প্রস্তুতি সভায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ দপশ : ডিসি মো,রায়হান কবির এডিটরস ক্লাব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তমিজীর সাথে জহিরুল ইসলাম বিদ্যুতের সৌজন্যে সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাত ভেন্যু সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : ডিসি জাহিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে কিডনি রোগের ঝুঁকি

এম সামাদ মতিন / ৮৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। ২০১০ সালে দেশে কিডনি রোগের হার ছিল ১৫–১৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০–২২ শতাংশে। দেশের তিন জেলায় পরিচালিত কিডনি স্ক্রিনিং কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরেছে কিডনি ফাউন্ডেশন।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও কিডনি রোগ: ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাম্পসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. এ. সামাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কিডনি রোগ এখন নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণ, ভেজাল খাদ্য, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং দারিদ্র্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ দ্রুত বাড়ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। অথচ চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় অধিকাংশ রোগীর পক্ষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এম. এ. সামাদ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর, বিশেষ করে কিডনির ওপর, সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কিডনি রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।
বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত গরমে খোলা আকাশের নিচে কর্মরত কৃষক, নির্মাণশ্রমিক ও রিকশাচালকদের মধ্যে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি থাকে। দীর্ঘসময় পানিশূন্যতায় থাকলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জোবায়দা বেগম বলেন, কিডনি রোগ শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পরিবার ও রাষ্ট্রের ওপরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও খাদ্যদূষণ, বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। কিডনি রোগের মতো জটিল অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, দেশের ১৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মাত্র ১৫০ টাকায় কিডনি স্ক্রিনিং করে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি। তিনি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে উদ্ভিজ্জ আমিষ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন অধিক কার্যকর। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী সুস্থ নিকটাত্মীয় কিডনি দান করতে পারেন। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির অঙ্গদান কার্যকরভাবে চালু করা গেলে প্রতিবছর হাজার হাজার কিডনি বিকল রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর (এনসিডিসি) অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন, পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম, বিএসপিডির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মোস্তান হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক মোকারম হোসেন, পরিবেশবিদ ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম, বিজিএমইএর চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলীম, ক্যাম্পসের নির্বাহী সম্পাদক রেজওয়ান সালেহীন এবং বিজিএমইএর পরিচালক মিজানুর রহমান পিন্টু।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..